Post Created by Ostrichbd.com

এক এগারোর পরম সত্য কথা/চেয়ারম্যানের দিনলিপি:

””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারী জাতির ইতিহাসের এক স্মরনীয় দিন।এদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আড়ালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতার চালিকা শক্তি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছিল।

তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মঈন ইউ আহমেদ

আমি তখন হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্বরত ছিলাম।

সেসময়ের ক্ষমতার পালাবদলে সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বেশী রোষানলে পড়েছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।একই সাথে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান, মেম্বাররা যেন জলন্ত অগ্নিকুন্ডে।তখনও উপজেলা পরিষদ গঠিত হয়নি।সংসদ সদস্যের বাহিরে নির্বাচিত জন প্রতিনিধি বলতে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান/ মেম্বাররাই ছিলেন।যেহেতু আমি নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলাম তাই প্রশাসনের অনেক কিছু খুব কাছ থেকে দেখেছি।সেই দৃষ্টিকোন থেকে আমি বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু ঘটনাবলী তুলে ধরলাম।

প্রতিদিন খবর আসে এই বুঝি কোন চেয়ারম্যনকে ধরে নিয়ে গেল।এ নিয়ে আম জনতার অনেকেই অতিবেশী উৎসুক ছিলেন। প্রতিদিন নানা রকম মুখরোচক খবরা খবর গ্রামগন্জের চায়ের দোকানে রীতিমত ঝড় তুলত।

অবশ্য এটা সত্য সারাদেশে অনেক চেয়ারম্যানকে সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে শাস্তি দিয়েছে যাদের অনেক দূর্নাম ছিল এবং তাদের অনেকের বিরুদ্ধে জনমনে চরম অশান্তি বিরাজ করছিল।এক এগারোকে ঘিরে সাধারন জনগন অত্যধিক উচ্চসিত ছিল এ কারনে যে এবার বুঝি অতীতের চেয়ে ভাল শাসন  এলো।

দেশ স্বাধীনের পর থেকে এমন কিছু ক্ষমতাধর রাজনীতিবিদ ও দূ্র্নীতিবাজদের দেখা গেছে যাদের কখনো আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি সেই কাজটি কিন্তু সেনা শাসকরা করতে পেরেছিলেন।সেনাবাহিনীর সেদিনের সেই উদ্যোগ বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ডঃ ফখরুদ্দীন  আহমেদ

এ কারনে মানুষের প্রত্যাশাও ছিল অনেক বেশী।কিন্তু পরবর্তীতে জনগনের ভূল ভাংগে।তারা যা ভেবেছিলেন আপাত দৃষ্টিতে সঠিক মনে হলেও ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা।সেনাবাহিনীর কিছু দূর্নীতিবাজ অফিসারদের উচ্চাভিলাসিতার কারনে সমগ্র অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল।পরবর্তীতে আমরা দেখেছি মানুষ হতাশায় তাদের দিকথেকেমুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলI

চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকেআমি সচরাচর সপ্তাহে ৩দিন সকাল ৯ টা থেকে ইউপি কার্যালয়ে বসতাম এরপর আমি চট্টগ্রাম শহরে আমার ব্যবসায়িক প্রতিষ্টানে চলে যেতাম।

সন্ধ্যায় আবার নজুমিয়া হাটে একজন ইউপি মেম্বারের ফার্নিচারের দোকানে বসতাম।যেখানে দলীয় লোকজন থেকে শুরু করে এলাকার লোকজন আসতেন।তাদের সাথে গল্পগুজব করতাম। এটাই ছিল আমার দৈনন্ন্দিন রুটিন।কিন্তু এক এগারোর পর আমি ইউপি কার্যালয়ে রুটিনমত গেলেও সন্ধ্যার সেই বৈঠকে আমি আর লোকজন নিয়ে বসতাম না।

এভাবেই আমি দিনাতিপাত করছিলাম।যদিওবা প্রতিদনকার সংবাদ নিয়ে চরম শংকায় রাত কাটাতাম এই বুঝি প্রশাসনের লোকজন আমাকে ধরে নিয়ে গেল।

এক এগারোর পর অনেক চেয়ারম্যান ঘর থেকে পালিয়ে বেড়ালেও আমি কখনো আমার ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাইনি কারন আমার মনে সৎসাহস ছিল এই কারনে যে আমি জেনে শুনে কখনো কোন অন্যায় কাজ করিনি কিংবা কারো সাথে কোন অসধাচারন করিনি।আমার সাধ্যের মধ্যে আমি চেষ্টা করেছি মানুষকে সহযোগীতা দেয়ার। তারপরেও শংকায় ছিলাম কখন আমার উপর খড়কহস্ত নেমে আসে।

এই দুশ্চিন্তায় গভীর রাত অবধি জেগে থাকতাম আর টিভি স্ক্রিনে তাকিয়ে থেকে সময় পার করতাম।সে এক চরম দুঃসময় আমি বলব।এভাবে কিছুদিন চলারপর টিভি টকশোতে দেখলাম সাংবাদিকরা শামরিক শাসনের বিরুদ্ধে আস্তে আস্তে মুখ খুলতে শুরু করেছেন।

সেই চরম দুঃসময়ে সবচেয়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে যিনি জনমনে আশা জাগিয়েছিলেন আমার দৃষ্টিতে নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নুরুল কবির। তিনি চরম সাহসিকতার সহিত প্রতিদিনকার নানা ঘটনাবলীর কঠোর সমালোচনা করতেন।যদিওবা বর্তমানে সেই সাহসী সাংবাদিক আজ  ক্ষমতাসীনদের ব্ল্যাক লিস্টের কারনে টকশো থেকে অনেক দূরে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন।

আমি সেই সাহসী সাংবাদিক শ্রদ্ধেয় জনাব নুরুল কবিরের প্রতি জানাই বিপ্লবী অভিনন্দন।

তখনকারদিনে পত্র পত্রিকা আর টেলিভিশনের টকশোতে রাজনীতিবিদদের তুলোধুনো করতেন নিয়মিত।সেইরকম এক টকশো উপস্তাপনা করছিলেন এটিএন বাংলার জ,ই,মামুন।সেই টকশোতে তিনি সাংবাদিক নুরুল কবিরকে প্রশ্ন করলেন এভাবে- “রাজনীতিবিদরা এদেশটাকে রসাতলে নিয়ে গেছেন”।তখন সাথে সাথে নুরুল কবির সাহেব তাহার  এই কথার তীব্র প্রতিবাদ করলেন এবং বললেন “রাজনীতিবিদরা এদেশকে রসাতলে নিয়ে গেছেন আপনার এ কথার সাথে আমি দ্বিমত পোষন করছি”।

তিনি আরো যোগ করলেন এই দেশের রাজনীতিবিদরাই কিন্তু সময়ের প্রয়োজনে যুগে যুগে আন্দোলন করেছিলেন বলেই আমরা আজ স্বাধীন এবং একটি নতুন দেশ পেয়েছি।

সেদিনের সেই টকশো এখনো আমার মনে গেথে আছে।এত কঠিন পরিস্তিতি সত্বেও নুরুল কবির সাহেব সেদিন সাহসিকতার পরিচয় দিতে কার্পন্য করেননি।

Post Creted by Ostrichbd.com

              ekushey_feb21

একুশের নিবেদন

এখন রাত ১১ টা।
একটু পরে শুরু হবে ২১ শে ফেব্রুয়ারী।
রাত ১২:০১ মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্প স্তবক অর্পনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের জনগন ভাষা শহীদদের প্রতি সম্মান জানাবেন।
ঐতিহাসিক এ ভাষা দিবসে শহীদদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম।একটি বিষয় অনেকের কাছে এখনো অজানা যে
২১ শে ফেব্রয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃ ভাষা দিবস হিসাবে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে।
একদল বাংগালীর নিরলস পরিশ্রম আর নিরন্তর প্রচেষ্টার ফসল হিসাবে জাতীসংঘ থেকে এ স্বীকৃতি আদায় করতে পেরেছে।ভাষার জন্য যে মানুষ জীবন দিতে পারে সেটা প্রমান করেছে বাংগালীরা।
তাই আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যখনই এ দিবসটি পালিত হয় সেখানে এই ভাষা দিবসের পটভুমি আলোচিত হয়।এতে বাংলাদেশের গৌরবময় ইতিহাস ফুটে উঠে।তবে একথা বলতেই হয় মনের আবেগ প্রকাশ করার জন্য মাতৃ ভাষার কোন বিকল্প নেই।
তাই বিশ্বের বিভিন্ন ভাষার জনগোষ্ঠির কাছে ৫২ এর ভাষা আন্দোলন এক অনুপ্রেরনার নাম।

যুগযুগ ধরে এ অনুপ্রেরনা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সামনে এগিয়ে যাবার শক্তি যোগাবে নিঃসন্দেহে।

তবে একটি কথা না বললেই নয় অনেকে এ ভাষা দিবস আসলে কেমন যেন আবেগী হয়ে যান।তারা বাংলা ভাষাকে সর্বত্র প্রতিষ্ঠার কথা বলতে গিয়ে ইংরেজী ভাষাকে বর্জনের কথা বলেন যা মোটেই সমীচিন নয়। কারন ইংরেজী হলো আন্তর্জাতিক ভাষা।যেটা আমাদের তরুন প্রজন্মের আয়ত্ত করা অত্যন্ত জরুরী।

বর্তমানে ইনফরমেশন টেকনোলজির এ যুগে ইংরেজীকে আরো বেশী করে আয়ত্ত করতে হবে।
অন্যথায় আমরা আরো পিছিয়ে পড়বো।

আমরা দেখেছি আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মকে তারা কম লেখাপড়া করেও ইংরেজীতে অনর্গল পড়তে, লিখতে ও বলতে পারতেন।কিন্তু দেখা গেছে বর্তমানে বিএ,এম এ পাশ করেও অনেকে ভাল করে ইংরেজীতে একটি চিঠি লিখতে গলদগর্ম হয়ে পড়েন।
এর একটি কারন হিসাবে আমি বলব এস,এস,সির পরবর্তী শ্রেনী গুলোতে ইংরেজী ভাষাকে বাধ্যতামুলক না করা।এতে শিক্ষার্থীরা ইংরেজী ভাষাকে তেমন গুরুত্ত দেন না।ফলশ্রুতিতে ভাল ইংরেজী জানার অভাবে বিশ্বে আমরা তাল মেলাতে পারছিনা।প্রতিযোগীতায় আমরা পিছিয়ে থাকি।
আজকের এই মহান দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা রখেই বলব আবেগ নয় বাস্তবতাকে মেনে নিন।
মাতৃ ভাষাকে সঠিকভাবে অনুশীলন করুন একই সাথে ইংরেজী ভাষাকেও সমান গুরুত্ত দিন।আগামীর পথ চলা সহজ করুন।

Post Created by Ostrichbd.com

“বিজয় দিবসে এখনো আমাদের প্রত্যাশা”

বিজয় দিবসে এখনো আমাদের প্রত্যাশা:—

স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৬ বছর পরেও আমাদের লিখতে হচ্ছে বিজয় দিবসে আমাদের প্রত্যাশা।কারন আকাংখা আর প্রাপ্তির ব্যবধান আজ আমাদের কাছে নতুন করে চিন্তার কারন হয়ে দাড়িয়েছে।
যে জাতি যুদ্ধকরে নিজের মাতৃভূমি স্বাধীন করেছে, আজ সে জাতির সামনে স্বাধীনতা যেন ধীরে ধীরে পরাধীনতার শৃংখলে আবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে।
স্বাধীনতার অন্যতম স্তম্ভ হলো  গনতন্ত্র।গনতন্ত্র মানে পরমত সহিষ্নুতা অার মত প্রকাশের স্বাধীনতা।আজ সে পথ রুদ্ধ।আঈনের শাসন গনতন্ত্রের চালিকা শক্তি।আঈন এখন আর নিজস্ব গতিতে চলেনা । ধীরে ধীরে আঈনের কাঠামোগুলো ভেংগে পড়ছে।
স্বাধীন দেশে সকলের সমান অধিকার।কিন্তু সে অধিকার আজ কাতারবন্দী।

এভাবে চলতে চলতে সামনে আর বেশীদূর এগোনো যাবেনা।কারন শৃংখলিত জীবন কখনো স্বাধীন হতে পারেনা।

মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।ভোটের অধিকার থেকে যখন মানুষ বন্চিত হয় এবং প্রশাসনের সহযোগীতায় যখন ভোটাধিকার হরন হয় তখন সেই সরকারের কাছে মানুষ আর কিইবা  প্রত্যাশা করতে পারে?

 

কিন্তু স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৬ বছর পর এখনও আমরা আশায় বুক বেধে আছি এদেশ আমাদের আকাংখিত সেই পথে নিয়ে যাবে যেখানে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন থাকবে,গনতন্ত্রের অবাধ চর্চা হবে,মানুষ প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার পাবে,আঈন তার নিজস্ব গতিতে চলবে,কেউ অনাকাংখিত গুম/খুনের  শিকার হবেনা,বিরোধী মত প্রকাশের পথ উম্মুক্ত হবে,রাজনীতির নামে জনগনের সাথে ধোকাবাজি হবেনা,ছাত্ররা রাজনীতিবিদদের দাবার ঘুটি হবেনা।
***************

Post Created by Ostrichbd.com

আইনের শাসন একটি উদাহরনঃ
==========================

সম্প্রতি এক বাংলাদেশিকে হত্য়ার অভিযোগে ২ মালয়েশিয় পুলিশ কে মৃত্যুদন্ড প্রদান করে মালেশিয়ার একটি আদালত।আইনের শাসন আছে বলে সে দেশে এ রায় প্রদান করা সম্ভব হয়েছে।এখানে আইন সবার জন্য সমান। রায়ে প্রবাসিরা সতুষ্ট।
জানা যায় থানায় ধরে নিয়ে বন্ধী অবস্তায় পুলিশের হাতে থাকা মোটা লাঠি দিয়ে আঘাত করার ফলে তাহার মৃত্যু হয়।
প্রথমে পুলিশ তা অস্বীকার করে কিন্তু ভিডিও ফুটেজে পুরো বিষয়টি ধরা পড়ে।

একটি বিষয় এখানে লক্ষ্যনীয় সরকারি প্রশাসন বিচার প্র্রক্রিয়ায় কোনরুপ হস্তক্ষেপ করে নাই।একটি স্বছ্ছ প্রক্রিয়ায় এর বিচার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।ফলে প্রবাসী এবং পর্যটকেরা নিজেকে অনেকটা নিরাপদ মনে করছে।
তাছাড়া সে দেশের নাগরিকরা দল মত নির্বিশেষে সবাই এ আইনের ফলে নিজেকে সুরক্ষিত বলে মনে করে।সেজন্য আজ মালয়শিয়া উন্নতির চরম শিখরে পৌছে গেছে।আজ মালায়শিয়া বিশ্বের কাছে একটি উদাহরন।

পক্ষান্তরে বাংলাদেশের বিচারিক আদালতের যে দুরাবস্তা তা ভুক্তভোগী মাত্রই অবগত আছেন।আইনের শাসন এখানে সম্পুর্ন অনুপস্তিত।জনগন এখানে সম্পুর্ন জিম্মি হয়ে আছেন।প্রশাসন এখানে ক্ষমতাশীনদের নিয়ন্ত্রনে।বেপরোয়া পুলিশ।বিচারের বানি এখানে নির্বিত্তে কাঁদে।কারো যেন কিছুই করার নেই।

কিন্তু এভাবে চলতে গিয়ে জনমনে যে গভীর প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হছ্ছে সরকার কি একবার ও তা ভেবে দেখেনা?

জনগনের ঐক্য যদি সূদৃড় না হয় তাহলে টেকসই ঊন্নয়ন কি সম্ভব ?
সরকার যত দ্রত গনতন্ত্র ফিরিয়ে এনে আঈনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে ততই দেশের জন্য মঙ্গল।

————————————————————————————————————–

Post Created by Ostrichbd.com

দালাল ধরার দিন শেষ,মাত্র ৫ মিনিটে করিয়ে নিন আপনার পাসপোর্ট:
                                                                                      Radio Spark Community
*******************************************************************************
হেডলাইনটা এমন ভাবে দিল যেন প্রকৃতই ৫ মিনিটে  Passport করে নেয়া যায়।প্রচুর লাইক ও পড়েছে।
Radio Spark Community  এর এমন একটি পোস্ট আজ Facebook এ চোখে পড়ল যা মোটেই সত্য নয়।
পরে English এ যা বর্ননা দিল সেখানে ১৫ আর ৩০ দিনের কথা বলা হলো।

 

অনলাইনে না হয় ফরম পূরন করা গেল কিন্তু জমা দেবার জন্য তো প্রার্থীকে অবশ্যই পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে,তার উপর তাকে Attestation  এর ব্যবস্তা করতে হবে।এর পরেও পাসপোর্ট জমা হবেনা।

কারন তখন অফিসার নানা ভূল ত্রুটি ধরিয়ে দেবেন।আবার পরের দিন আসতে হবে। এভাবে হয়রানীর শিকার হয়ে আপনাকে শেষ পর্যন্ত পাসপোর্ট ব্রোকারের স্মরনাপন্ন হতে হবে।যদি চাহিদামত টাকা দেন তো ভূল ভ্রান্তি সত্বেও আপনার পাসপোর্ট ঐদিনই জমা হয়ে যাবে।কারন শুনা যায় দিন শেষে প্রতি পাসপোর্টে একটা নির্দিষ্ট পরিমান টাকা মার্কা অনুযায়ী ব্রোকারকে  পাসপোর্ট  অফিসে দিতে হয় যার ভাগ ডাইরেক্টর থেকে শুরু করে অধস্তন কর্মচারীরা পেয়ে থাকেন।

এছাড়াও ব্রোকারকে ওখান থেকে প্রতি পাসপোর্ট পিছু নির্দিষ্ট টাকা পুলিশকেও নাকি দিতে হয়, না হয় পাসপোর্ট কোনদিনই পাবেন না।কারন পুলিশ টাকা না পেলে রিপোর্ট  আটকিয়ে হয়রানী করে এটা ভুক্তভোগীদের অভিযোগ।

পাসপোর্ট ব্রোকারকে স্তানীয় মাস্তানকেও নিয়মিত চাদা দিতে হয়।এসব করে পাসপোর্ট ব্রোকাররা তবেই কাজ সম্পন্ন করতে পারেন।
Radio Spark Community বর্ননা মতে পাসপোর্ট কোন দিনই এত সহজে হাতে আসবে না।এটাই নিয়মে পরিনত হয়েছে।

জনমনে প্রচলিত ধারনা প্রতিদিন এভাবে লক্ষ লক্ষ টাকার দূর্নীতি হয় যা Open Secret.
আমার বক্তব্যের দ্বিমত কেউ করতে চাইলে অনুরোধ করব পাসপোর্ট অফিসে সরেজমিনে একবার ঘুরে আসার। ওখান থেকে প্রকৃত চিত্র আপনি পেয়ে যাবেন।

মাঝে মাঝে অবশ্য RAB বা গোয়েন্দা সংস্তার কিছু কিছু অভিযানের কথা আমরা শুনি কিন্তু   Radical কোন পরিবর্তন আমরা দেখিনা।

তাই অনুরোধ জানাব এভাবে নিজের লেখার খাটতি বাড়ানোর জন্য প্রকৃত চিত্রকে বাদ দিয়ে শুধু দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য এ ধরনের ভূল তথ্য তুলে না ধরা হয় যাতে মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে।

View comments

Post created by Ostrichbd.com

ইমিগ্রেশন অফিসারের দায়িত্বহীনতার নমুনা

#পর্ব এক:
ইমিগ্রেশন অফিসারের দায়িত্বহীনতা
**************************************
সময়টা ১৯৯৫ সাল।অফিসে বসে কাজ করছি।
আমি তখন তারেক ওভারসীজ লিঃ এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসাবে দায়িত্ব পালন করছি। এমন সময় বাংলাদেশ বিমান চট্রগ্রাম অফিস থেকে ফোন আসল আমাদের এক যাত্রী মাসকাট Al Seeb International Airport এ আটকে আছে। বিমান তার টেলেক্স বার্তায় জানিয়েছে লোকটা অবৈধভাবে ছবি পরিবর্তন করে চট্রগ্রাম থেকে মাসকাট গিয়েছে এবং এ অবৈধ কাজটির জন্য বিমান কর্তৃপক্ষ কোন বাচবিচার না করে সরাসরি আমাদের ট্রাভেল এজেন্ট তারেক ওভারসীজ লিঃ কে অভিযুক্ত করে বসে।

                                                ইমিগ্রেশন কাউন্টার

বিষয়টি শুনে আমার কেমন যেন খটকা লাগল।কারন আমার জানা মতে তারেক ওভারসীজ লিঃ কখনোই কোন দুনম্বরী কাজের সাথে জড়িত বা সম্পৃক্ত ছিলনা।আমি ব্যাক্তিগত ভাবে এসব কাজ সচেতন ভাবে এড়িয়ে চলতাম।তাই লোকটা যে ছবি পরিবর্তন করে মাসকাট যায় নাই এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত ছিলাম।কিন্তু কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলাম না ঘটনাটা ঘটল কিভাবে।

উল্লেখ্য বাংলাদেশ বিমান সপ্তাহে দুবার প্রতি বুধবার ও রবিবার চট্রগ্রাম থেকে মাসকাট সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করে আসছে।আটকা পড়া ঐ যাত্রী বাংলাদেশ বিমানের যাত্রী ছিল।
আমরা বিমানের এজেন্ট হিসাবে সরাসরি টিকেট কেটেছিলাম।বিমানের পরিবহনের নিয়ম অনুযায়ী
যাত্রীর ভ্রমন সংক্রান্ত যে কোন সমস্যার দায়ভার সংশ্লিষ্ট এজেন্টের উপর এসে পড়ে।তাই এর দায়ভার আমাদের উপর চাপানো হলো।

শাহ আমানত বিমান বন্দর,চট্রগ্রাম

হঠাৎ আমার মনে হলো মাসকাটগামী অন্য যাত্রীর ডক্যুমেন্ট যা আমাদের হাতে রক্ষিত আছে যাদের এখনো ফ্লাইট হয় নাই এগুলো সব ঠিক আছে কিনা একটু যাচাই করে দেখা দরকার।ডক্যুমেন্ট চেক করতে গিয়ে আমার চক্ষু ছড়াক গাছ।দেখা গেলো এক যাত্রীর পাসপোর্টের সাথে ভিসা লাগানো আছে অন্য আরেক যাত্রীর।আরো অবাক করার বিষয় পাসপোর্ট হলো এক মুসলিম যাত্রীর আর ভিসা হলো এক জন হিন্দুর।
আমার আর বুঝতে বাকী রইলো না ব্যাপারটা।
অর্থাৎ সেই হিন্দু যাত্রী ভুলক্রমে মুসলমান যাত্রীর ভিসা নিয়ে চট্রগ্রাম বিমান বন্দরের ইমিগ্রেশন পার হয়ে মাসকাট গিয়ে আটকে গেলেন।
সে সময় প্রচুর মাসকাটের ভিসা বের হতো। প্রতিদিন একাধিক যাত্রীর পাসপোর্ট আর ভিসা একসাথে ঢাকায় ম্যানপাওয়ার ক্লিয়ারেন্সের জন্য পাঠানো হতো।ঢাকায় আনা নেয়ার এক ফাকে কিংবা একসাথে অনেক ডক্যূমেন্টের ফটোকপি করতে গিয়ে হয়তো ভূলক্রমে একটার কপি আরেকটার সাথে এটা্চ হয়ে গেছে যা ডক্যুমেন্ট ডেলিভারীর সময় আমাদের নজর এড়িয়ে যায়।

Al Seeb Interatinal Airport,Muscat

কিন্তু এক্ষেত্রে ইমিগ্রশনের নজর কিভাবে উপেক্ষা করা যায় যেখানে ভিসার সাথে পাসপোর্টের হুবহু মিল আাছে কিনা তা যাচাই করা ইমিগ্রেশনের প্রথম শর্ত ।তার উপর একজন হিন্দু যাত্রী তাও আবার মুসলমানের ভিসা নিয়ে চলে গেল। তাতে অনায়াসেই বুঝা যায় সংশ্লিষ্ট ইমিগ্রেশন অফিসার কত অমনেযোগী ছিলেন।তিনি সম্পূর্ন দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। অথচ বিমান কর্তৃপক্ষ  সম্পূ্র্ন বিষয়টা যাচাই বাচাই না করে একতরফা ভাবে আমদের দোষারুপ করে গেল যা রীতিমত অন্যায়।

# পর্ব দুইঃ
বাংলাদেশ বিমান ম্যানেজারের আন্তরিকতা
*********************************************
এবার পড়ে গেলাম মহা দুশ্চিন্তায় কিভাবে এসংকট থেকে উত্তরন ঘঠানো যায়।একেতো মাসকাটে আটকে আছেন এক যাত্রী দ্বিতীয়ত অপর যাত্রী যার ভিসা আমাদের হাতে নাই তাকে কিভাবে পাঠাবো কিংবা যদি বিষয়টা জেনে যায় তবে তাকে কি জবাব দেব তা ভেবে কোন কূল কিনারা পাছ্ছিলামনা।
মাসকাট থেকে যদি যাত্রী ফেরত আসে তাহলে যে আমাদের বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।কারন আসা যাওয়ার ভাড়া আমাদের দিতে হবে।

এসব দূশ্চিন্তার মাঝে আমার মরহুম মেঝ ভাই মোহাম্মদ এয়াকুব বাংলাদেশ বিমান চট্টগ্রামের তৎকালীন ম্যানেজার জনাব আবদুল হাই সাহেবকে  অনুরোধ করে আমাদের অফিসে নিয়ে আসেন এবং বিষয়টি তাকে বুঝাতে সক্ষম হন।

আমাদের অফিস থেকে মাসকাটে বিমানের তৎকালীন এয়ারপোর্ট ম্যানেজার জনাব মরহুম নিজামুল হকের সাথে সরাসরি ফোনে আলাপ করে তার সহযোগীতা চাওয়া হয়।তিনি বিমানের চট্রগ্রামের ম্যানেজারের সাথে আলাপ করে সম্পূর্ন বিষয়টি অবগত হন এবং পরামর্শ দেন যেভাবে হোক পরবর্তী ৭২ ঘন্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট যাত্রীর ভিসা বাংলাদেশ থেকে মাসকাটে বিমানের এয়ারপোর্ট ম্যানেজার বরাবর পৌছাইতে হইবে।অন্যথায় বিমানের পরবর্তী ফ্লাইটে যাত্রীকে ফেরত পাঠানো হইবে।
উল্লেখ্য বিমানের উভয় ম্যানেজারই মরহুম বড়ভাই তারেক ওভারসীজ লিঃ এর সাবেক ম্যানেজিং ডিরেক্টর আলহাজ্ব মোং ইউনূছ মিয়ার খুবই ঘনিষ্ট ছিলেন।

#পর্ব তিনঃ
বাংলাদেশ ডাক বিভাগের চ্যালেন্জ
************************************
বিমান ম্যনেজার এর পরামর্শ মতে  প্যাকেটে ভরে ভিসা সহ সাথে নগদ ৫০$ ডলার দিয়ে দেয়া হলো যাতে আটকে পড়া যাত্রীর হাতে থাকা ভিসা ফিরতি কুরিয়ার সার্ভিসে পাঠিয়ে দিতে পারেন।এবার ছুটলাম DHL কুরিয়ার সার্ভিসে পার্সেল পাঠানোর জন্য।দ্রত ছুটছি প্যাকেট হাতে নিয়ে যেভাবে হোক ৭২ ঘন্টার ভিতর পার্সেল মাসকাটে পৌছাইতে হইবে অন্যথায় যাত্রীকে ফিরতি বিমানে ফেরত পাঠিয়ে দিবে।অনেক আগ্রহ নিয়ে DHL অফিসে গিয়ে তাদেরকে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝালাম।শুনে তারা বললেন ৭২ ঘন্টা বা তিনদিনে পার্সেল পৌছানোর কোন গ্যারান্টি তারা দিতে পারবে না।তাদেরকে ৫ দিন সময় দিতে হবে।তাদের সার্ভিস ফি ২৫০০/-টাকা।আমি অনেক ভেবে দেখলাম বিকল্প কি করা যায়।এখানে টাকার চেয়ে সময়টা আমার কাছে বেশী গুরুত্বপূর্ন।

হঠাৎ আমার মনে পড়ল বাংলাদেশ ডাক বিভাগের কথা।আমি প্রায় চট্রগ্রাম সদর ডাক বিভাগে যেতাম।সেখানে EMS (Express Mail Service) আছে যারা DHL এর মত পার্সেল বিভিন্ন দেশে পরিবহন করে থাকে।বেশীদিন হয় নাই এ সার্ভিস টি ডাক বিভাগ চালু করে।

 

আমি তাদের হাতে পার্সেলটি দিয়ে কয়দিনের মধ্যে মাসকাট পৌছে দিতে পারবেন তা জানতে চাইলে তারা চ্যালেন্জ দিয়ে জানালেন পৃথিবীর যে প্রান্তেই হোক ৭২ ঘন্টার মধ্যে তারা পৌছে দিতে সক্ষম।আর সার্ভিস ফি মাত্র ৪৭২/- টাকা।
ডাক বিভাগের কর্মকর্তার এই আশ্বাসে EMS সার্ভিসেই পার্সেলটি পোস্ট করে দিলাম।কিন্তু মনের ভিতর দুশ্চিন্তা রয়েই গেল পার্সেলটি আদৌ ৭২ ঘন্টায় পৌছবে কিনা।কারন সরকারী পরিবহনের উপর আামাদের একটি নেতিবাচক মনোভাব সব সময় কাজ করে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্তার কারনে।
যাইহোক পার্সেলটি দিয়ে সময় গুনতে লাগলাম কখন ৭২ ঘন্টা আসবে।
পার্সেল পোস্ট করার পর তৃতীয় দিন সকালে আমি সরাসরি বিমানের মাসকাট এয়ারপোর্ট ম্যানেজারের বাসায় ফোন কল করলে কেউ রিসিভ করে নাই।অনেক দুশ্চিন্তার পর বিকালে পূনরায় কল করলে বাসার কেয়ারটেকার ফোন রিসিভ করে তাকে ম্যানেজার সাহেবকে দিতে বলি।কিন্তু কেয়ার টেকার বললেন ম্যানেজার সাহেব নাই।তিনি এয়ারপোর্টে গেছেন আটকে থাকা এক লোককে ছাড়িয়ে আনতে।তখন আর বুঝতে বাকী রইলোনা যে আমার পাঠানো ভিসার পার্সেলটি বাংলাদেশ ডাক বিভাগের চ্যালেন্জ অনুযায়ী ৭২ ঘন্টার মধ্যেই মাসকাটে পৌছে গেছে।
ডাক বিভাগের প্রতি কৃতজ্ঞতায় আমার মন ভরে গেল।
সত্যি সেদিনের ঘটনা আর ডাক বিভাগের এই চমৎকার সার্ভিসের কথা আমি সুযোগ পেলেই সবাইকে শেয়ার করি এবং EMS সার্ভিসটির কথা অকপটে স্বীকার করি।
++++++++++++++++++++++++++++++++++

লেখক পরিচিতি:
মোঃ হারুন-অর-রশীদ
ex.Chairman,
শিকারপুর ইউনিয়ন পরিষদ,
হাটহাজারী উপজেলা,চট্রগ্রাম।
“”””””””””””””””””””””””””””””
President,
লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং পারিজাত এলিট।
“””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
Managing Partner & CEO
গার্ডিয়ান ট্রাভেলস,চট্রগ্রাম।

View comments

This post is created by Ostrichbd.com

একটি ভ্রমন কাহিনী // বাংগালীর বুদ্ধির কাছে চীনারাও হার মানল==

১৯৯৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর,আটাব (এসোসিয়েশান অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ) এর মার্কেটিং কনফারেন্সে যোগদানের জন্য হংকং ও চীনের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে বাংলাদেশ বিমানে ছড়ে রওয়ানা হলাম।প্রথম গন্তব্যস্তান হংকং।তখন হংকং যুক্তরাজ্যের অধীন ছিল।

আমি সবে মাত্র চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে বেরোলাম।মরহুম বড় ভাই আলহাজ্ব মোঃ ইউনুছ মিয়ার অকাল মৃত্যুর পর তারেক ওভারসীজ লিমিটেডের তখন আমি ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলাম।প্রায় শ খানেক সদস্যের এক বিরাট বহর।আটাব,
চট্রগ্রাম থেকে আমরা প্রায়১৫ জন সদস্য যোগদান করেছিলাম। বাকীরা সবাই ঢাকার।যতদূর মনে পড়ে আমাদের সাথে ছিলেন চিটাগাং এয়ার এক্সপ্রেসের এনামুল ইসলাম, কনকর্ড ইন্টারন্যাশনালের আবু জাফর,এশিয়া ওভারসিজের আবদুল মান্নান,হাইওয়ে ওভারসীজের নুরুল আবছার দুলাল ,ন্যাশনাল ট্রাভেল ব্যূরোর মরহুম ছগীর ভাই,জম জম ইন্টারন্যাশনালের জিয়াউদদীন প্রমূখ ।

                                         হংকং শহরের মনকাড়া দৃশ্য

আগে থেকেই আমাদের ফাইভ ষ্টার হোটেলে থাকা এবং খাওয়া দাওয়ার বন্দোবস্ত ছিল।বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ছাড়ে এবং হোটেলের বিশেষ কমিশনে এ আয়োজন চুড়ান্ত হয়।আটাব কেন্দ্রীয় কমিটি সমস্ত ব্যাপারটি দেখাশুনা করে।
বয়সে তরুন হওয়াতে আমি শুরু থেকে এই ভ্রমন নিয়ে খুবই উৎসুক ছিলাম।তাই সবকিছু আমি পরখ করে দেখছিলাম।

আমরা যথা সময়ে হংকং বিমান বন্দরে পৌছলাম।সবাই একাধিক  লাইনে ইমিগ্রেশনের জন্য দাড়িয়ে পড়ে।তখন বাংলাদেশের জন্য অন এরাইভাল ভিসা চালু ছিল।তখনো হংকং বৃটিশদের কলোনী ছিল।

হংকং এয়ারপোর্ট Legal Hotel লবিতে
                                                   লেখক মোঃ হরুন-অর -রশীদ

হংকং এয়ারপোর্ট এক দেখাতেই মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না।চারিদিকে চিমচাম পরিবেশ।খুবই পরিপাটি ও সুন্দর।চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবেনা।এত সুন্দর পরিবেশে খানিকটা যেন নিজেকে হারিয়ে ফেললাম।ভাবতে লাগলাম কোথায় আমাদের বাংলাদেশ।
সবকিছু যেন ম্যাজিকের মত মনে হচ্ছে ।কি ব্যাস্ততা চারিদিকে।শতশত লোক আসছে আর যাচ্ছে ।

                                     হংকং উপত্যাকার একটি দৃশ্যপট

একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় এয়ারপোর্টে কর্মরত বেশীর ভাগই মহিলা তরুনী এবং খুবই স্মার্ট। ছটফট তারা তাদের কাজ চালিয়ে যাছ্ছে দেখে মুগ্ধ না হয়ে পারা যায়না।

ইমিগ্রেশনের পর সবাই লক্ষ্য করলেন কাউকে এক সপ্তাহ,আবার কাউকে তিন মাসের ভিসা দিয়েছে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ কোন বাচ বিচার নেই।দেখা গেছে যে লাইনে এক সপ্তাহের ভিসা দিয়েছে সে লাইনে সবাইকে এক সপ্তাহের ভিসাই দেয়া হয়েছে।অথচ অনেকের পাসপোর্টে আমেরিকার ভিসা লাগানো ছিল।সেটা কোন বিবেচনায় নিলেন না।সৌভাগ্যক্রমে আমি তিন মাসের ভিসা পেয়েছিলাম যদিওবা আমাদের ভ্রমন নির্দিষ্ট ছিল হংকং তিন দিন,চীন তিন দিন।

                                    হংকং শহরের একটি চলমান দৃশ্য

হংকং সত্যি দেখার মত একটি শহর।সমুদ্রের সাথে লাগোয়া,ছোট বড় অনেক পাহাড়ের মাঝে কিছু সমতল ভূমি,এর মাঝেই অপূর্ব সুন্দর এই হংকং।

                                     হংকং এয়ারপোর্টে মরহুম ছগীর ভাই           
                                                                  ও লেখক মোঃ হারুন-অর-রশীদ

হংকং এর আয়তন প্রায় ২৭৫৫ বর্গ কিলোমিটারযুক্তরাজ্যের সাথে ১০০ বছরের চুক্তি শর্ত অনুযায়ী এতদিন তাদের অধীন ছিল।
বৃটিশরা হংকংকে তাদের কলোনী বানিয়ে রেখেছিল।১৯৯৭ সালের ১ জুলাই
চুক্তি শেষে যুক্তরাজ্য এই শহরটি বর্তমানে চীনকে বুঝিয়ে দেয়।উন্নত বিশ্বের আদলে এই শহরকে গড়ে তোলা হয়েছে।এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত ভাল বলা যায়।শক্তিশালী অর্থনীতির কারনে হংকং উন্নত বিশ্বে স্তান করে নেয়।

একটা বিষয় খুবই অবাক করে দেয় চলাচলের রাস্তা এবং ফুটপাত এমনভাবে তৈরী যাতে গাড়ী দাড়ালে কোন অসুস্ত রোগী কিংবা সন্তান সহ মা অনায়াসে গাড়ীতে আরোহন করতে পারেন।
দেখা গেছে বাচ্চাকে বেবি ট্রলীতে করে সারা শহর ঘুরাঘুরি করে প্রয়োজনে বেবি ট্রলী সহ বাচ্চাকে নিয়ে গাড়ীতে উঠে যাচ্ছেন  কোন রুপ প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই।অর্থাত যাত্রীবাহী  গাড়ী যখন দাড়ায় তখন গাড়াীর দরজা আর ফুটপাত
সমান হয়ে যায় তাই সহজে বাচ্চাকে সহ ট্রলী গাড়ীতে উঠে যায়।এতে মায়েদের সন্তান নিয়ে আমাদের দেশের মত  এত বিড়ম্বনায় পড়তে হয়না।এই ব্যবস্তা সবখানে বিদ্যমান।

                             শহরের পাশদিয়ে ট্রেনের সুন্দর সাবওয়ে

আর একটি বিষয় ছোখে পড়ার মত।আমরা দেখেছি আমাদের দেশে সন্তান সম্ভবা মায়েরা নিজের পেটটাকে আড়াল করে রাখেন যাতে অন্যের দৃষ্টি এড়ানো যায়।এখানে ঠিক তার বিপরীত।এখানকার সন্তান সম্ভবা মায়েরা বেশী টাইট কাপড় পড়েন যাতে সবার নজরে পড়েন।এর কারন হিসাবে জানা যায় এতে করে মায়েরা অন্যের বেশী সহানুভূতি পেয়ে থাকেন।তাদের জন্য সবখানে অগ্রাধীকার।

                                        হংকং    শহরের বিপনি বিতান

এবার আসল ঘটনার দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক।তিন দিনের হংকংয়ে অবস্তান শেষে আমাদের পরবর্তী গন্তব্য চীনের পথে রওয়ানা হলাম।আমরা চীন ঢুকব হংকং এর সীমান্তবর্তী শহর শেনজেন দিয়ে।
হংকং এর রাজধানী Kowloon শহর থেকে আমরা সবাই সকালে ট্রেনে ছেপে বসলাম।প্রায় ৪০/৪৫ মিনিট পর আমরা চীনের সীমান্তের শহর শেনজেন এর  কাছাকাছি পৌছে গেলাম।পথে কিছু ষ্টেশন অতিক্রম করে তবেই আমারা সীমান্তে পৌছলাম।

ট্রেনটি সম্পূর্ন স্বয়ংক্রীয়ভাবে চালিত।কোন ষ্টেশন পৌছার একটু আগে স্বয়ংক্রীয়ভাবে লাউড স্পীকারে ঘোষনা আসে।যাত্রীরা আগে থেকে তৈরী থাকেন।ট্রেন দাড়ানোর সাথে সাথে সবাই নেমে পড়ে আবার অনেকে উঠে পড়ে।ব্যাপারটা এমন যেন ছোখের পলকে সব কিছু ঘটছে।
এই ট্রেনের দরজা অনেক প্রশস্ত।।ট্রেনের বডি আার ফুটপাত সমান হয়ে যায়।অনায়াসে যে কোন লাগেজ উঠানামা করা যায়।যাত্রীরা সহজে উঠানামা করতে পারে তাই তত বেশী সময়ের প্রয়োজন হয়না।একটু পরে আমরা চীন সীমান্তে পৌছে গেলাম।

                                        পড়ন্ত বিকেলে হংকং এর দৃশ্য

এই সেই হংকং আর চীনের সীমান্ত পথ।মাঝখানে নদীর উপর একটা ব্রীজ দিয়ে সংযোগ তৈরী করা হয়েছে।আর এর উপরই বিশ্ব বিখ্যাত চলচিত্র অভিনেতা Bruce Lee এর সেই বিখ্যাত ছবি Exit The Dragon,Enter The Tiger এর স্যুটিং হয়েছিল যা আমি একটু পরখ করে দেখার সুযোগ পেয়েছিলাম।

                                                চীনের শেনজেন শহর
সীমান্তবর্তী শহর হওয়াতে চীনের বেশীরভাগ মানুষ হংকংয়ের প্রবেশদার হিসাবে শেনজেনকে বেশী ব্যবহার করে থাকেন।প্রতি ৫ মিনিট অন্তর ট্রেনে আসে আর হাজার হাজার মানুষ দূদিকের সীমানা পার হয়ে অনবরত প্রবেশ করে এই সীমানা দিয়ে।দেখে মনে হবে যেন জনতার মিছিল।
আমরা ট্রেন থেকে নেমে ইমিগ্রশনের কাজ সেরে বর্ডারে অবস্তিত চীনার ভিসা অফিসে ভিসার আবেদন জানালে তারা ব্যাক্তিগত ভাবে  ভিসা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।উপরন্তু তারা একসাথে এত বেশী বাংলাদেশীকে দেখে বিস্ময় প্রকাশ করে।কারন ইতিপূর্বে এতবেশী বাংলাদেশী ভিসা প্রার্থী কখনো দেখেনি।
এখানে একটি কথা আমাদের স্মরনে রাখা উচিত যে সময়ের কথা বলছি তখন চীন ছিল পূরোপূরী কম্যূনিস্ট শাসিত কনজার্ভেটিক সরকার।তখন চীনে প্রবেশের ক্ষেত্রে অনেক বেশী কড়াকড়ি ছিল।এভাবে ভিসার জঠিলতায় আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয়ে গেল।আমরা দেখছি আমাদের চোখের সামনে দিয়ে বিভিন্ন দেশের পর্যটকেরা অনায়াসে ভিসা নিয়ে নিয়ে ঢুকে পড়ছে কিন্ত আমরা অবহেলিত রয়ে গেলাম।
                                   চলমান ট্রেনের অভ্যন্তরীন Passage এ 
                                                                লেখক হারুন -অর-রশীদ 
এক পর্যায়ে তারা আমাদের ১০ জন করে গ্রূপ  ভিসা দেয়ার প্রস্তাব দেয়।কিন্তু আমাদের আটাব নেতারা তা নিতে অপারগতা প্রকাশ করে।কারন গ্রূপ  ভিসার সমস্যা হলো সবাই একসাথে না ফিরলে পূনরায় হংকংয়ে প্রবেশ করা যাবেনা।
একই ট্রেডের ব্যবসায়ী হিসাবে বিষয়টির গুরুত্ব আমরা বুঝি।এভাবে ভিসা অফিসারের সাথে দরকষাকষি করতে গিয়ে আমাদের পূরা দিনটাই মাটি হয়ে গেল
যেখানে আমরা দাড়িয়ে সেখানে খাবারের কোন হোটেল নাই।তাছাড়া সীমানা পার হয়ে যাওয়াতে ফিরে গিয়ে খাবার খাওয়া সম্ভব নয়।পূরোটা দিন প্রায় অভূক্ত রয়ে গেলাম।এক পর্যায়ে বেশ কিছু পেকেট ভর্তি আপেল পেলাম।৪টি বড় সাইজের আপেল ২০ হংকং ডলার। সবাই এক পেকেট করে নিয়ে আপেল দিয়েই দূপূরের Lunch সেরে নিলাম।
একটু পরে খবর এলো তারা আমাদের ভিসা দিতে রাজী হয়েছে এই শর্তে প্রত্যককে নগদ ৫০০ ডলার দেখাতে হবে।কোন ট্রাভেলার্স চেক তারা গ্রহন করবে না।তার কারন হিসাবে তারা বলল পরের দিন সরকারী ছুটির দিন। তাই চাইলেও কেউ এ চেক ভাংগাতে পারবেনা।যদিওবা অনেকের কাছে হাজার হাজার ডলারের ট্রাভেলার্স চেক ছিল।
                                শেনজেনের নৈসর্গিক প্রাকৃতিক দৃশ্য
আটাব নেতারা এ প্রস্তাব গ্রহন করলেন এবং সবাইকে এক স্তানে জড়ো করে প্রস্তাব দিলেন প্রত্যকের হাতে যা নগদ ডলার আছে তা এক জায়গায় জমা করার।কার কত ডলার তা নোট করে রাখা হবে।চীনে প্রবেশ করে প্রত্যেকের ডলার ফিরিয়ে দেয়া হবে।
উল্লেখ্য আমাদের অভ্যর্থনা জানানোর জন্য চীনে বসবাসকারী বাংলাদেশী কয়কজন শেনজেন সীমান্তে অপেক্ষায় ছিলেন।তাদের সহযোগীতায় ভিসার বন্দোবস্ত সম্ভব হয়েছে।
শর্তানুযায়ী ১০ টি পাসপোর্ট সাথে ৫০০ ডলার করে প্রতিটিতে একসাথে ভিসা অফিসে জমা করা হয়। কিছুক্ষন পরে ভিসা ষ্টাম্পিং হলে ভিসা অফিসের লোক নাম কল করে ১০ জনকে সাথে নিয়ে সীমানা পেরিয়ে চীনে প্রবেশ করিয়ে তবে পাসপোর্ট হাতে দেয় যাতে একই ডলার পুনরায় ব্যবহার করা না যায়।
এভাবে ১০ জন করে তারা ভিসা দিতে লাগলো।একই সাথে তাদের গোয়েন্দারা আমাদের উপর কড়া নজর রাখছিল।তাদের ধারনা ছিল নগদ এত ডলার আমাদের পক্ষে যোগাড় করা সম্ভব হবেনা, তাই আমাদের অনেকে ভিসা পাবেনা।
                    শেনজেন শহরের ব্যস্ত সড়কের একটি Parkway তে
                                                  লেখক মোঃ হারুন-অর-রশীদ
কিন্তু আমাদের ছিল বাংগালী বুদ্ধি যেটা তারা বুঝে উঠতে পারেনি।
আটাব নেতারা হিসাব করে দেখলেন এই প্রক্রিয়ায় অধিকাংশের ভিসা লাগলেও ৭/৮ জন ভিসা পাবেনা।কারন নগদ ডলার তখন ফুরিয়ে যাবে।তারা বুদ্ধি করলেন নেতৃস্তানীয় একজন এখানে থেকে যাবেন শেষের ৭/৮ জনকেও সাথে নেবার ব্যবস্তা করবেন।সর্বশেষ ভিসা প্রার্থীর দলনেতাকে বুঝিয়ে দিলেন ওপারের সুপার সপ থেকে কয়েক পেকেট বিস্কিট নিয়ে এর ভিতর নির্দিষ্ট কিছু ডলার দিয়ে সীমান্ত প্রহরীর মাধ্যমে এপারে অবস্তান কারী আমাদের ভাইদের জন্য যেন পাঠিয়ে দেয়া হয়।পেকেটে ডলার থাকবে এটা যেন তারা কিছুতেই বুঝতে না পারে।
যেই ভাবা সেই কাজ।
দ্রত ওপার থেকে কথামত বিস্কিটের প্যাকেটে ডলার দিয়ে চীনা প্রহরীদের অনুরোধ করা হয় তারা যেন এপারে থেকে যাওয়া আমাদের অবশিষ্ট ভাইদের দয়া করে বিস্কিটের পেকেট গুলো পৌছে দেন কারন তারা ক্ষুধার্ত।উল্লেখ্য সীমানা ততবেশী দূরে নয়, চোখে দেখা যায়।মাঝখানে বড় আকারের একটি মাঠ।আমাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে তারা ঠিকই ওপারে আমাদের ভাইদের কাছে বিস্কিটের প্যাকেট পৌছে দেয়।
এদিকে ডলার ভরতি পেকেট হাতে আসার সাথে সাথে সবাই তৎপর হয়ে উঠেন।
দ্রুত ডলার সহ বাকী পাসপোর্ট ভিসার জন্য জমা করা হয়।এতে চীনা কর্তারা খুবই তাজ্জব বনে গেলেন । এই ডলার গুলো কোথা থেকে পেল এটাই তাদের প্রশ্ন।রীতিমত তারা জেরা করতে লাগলেন।কারন তারা ভেবেছিলেন বাকী এ কয়জন আজ চীন ঢুকতে পারবেনা সেটাই তারা চেয়েছিলেন।অনেক বাক বিতন্ডার পর তারা ভিসা দিতে বাধ্য হলেন।আমাদের অভ্যর্থনাকারী বাংগালী বন্ধুরা তাদের বুঝাতে সক্ষম হলেন যে সীমান্তবর্তী পরিচিত দোকান থেকে ডলার ধার করে এনেছেন আমাদের অবশিষ্ট ভাইদের জন্য।
এভাবে বাংগালীর বুদ্ধির কাছে হার মানতে বাধ্য হলেন চীনারা।
                                          অপরুপ শেনজেন শহর
 
বহূ কষ্টে ভিসা হাতে পেয়ে আমরা যখন শেনজেন শহরে প্রবেশ করি তখন সন্ধ্যা হয়ে যায়। খই ব্যস্ত একটি শহর এই শেনজেন। উন্নত স্থাপনার ছোঁয়া চতূর্দিকে। সবকিছু পরিপাটি ,সুন্দর করে পরিকল্পিত ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে এই শহরকে। সবকিছু নিখুঁত।
শহরে ঢুকে আমরা হোটেলের গন্তব্যে হেটে চলেছি। আমাদের বাঙালি লোকাল গাইড আগেই আমাদের সাবধান করে দিয়েছিলেন আসে পাশে গলিতে দাঁড়িয়ে কেউ ডাকলে আমরা যেন সেদিকে কর্ণপাত না করি।
কারণ এটা একটা পর্যটনের শহর। এখানে নানা ধরণের মানুষ আর নানান ফন্দি থাকে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য। বিশেষ করে তরুণীরা রাতের আঁধারে পর্যকদের ফাঁদে ফেলে সবকিছু হাতিয়ে নেয়। আমরা দেখলাম ঠিকই রাস্তার পাশে গলির মুখে তরুণীরা সেজে গুঁজে দাঁড়িয়ে আছে এবং ইশারা করছে কাছে যাবার জ
                                     শেনজেনের একটি পার্ক এ পর্যটকেরা
আমরা যেহেতু আগে থেকে সতর্ক ছিলাম তাই তাদেরকে যতদূর সম্ভব এড়িয়ে যাবার চেষ্টা করলাম। এভাবে কিছুদূর যাবার পর সবাইকে রাতের ডিনারের জন্য একটি রেস্টুরেন্ট নিয়ে যাওয়া হলো।
আমরা সবাই কিন্তু প্রচন্ড ক্ষুধার্ত। দ্রুত সবাই ডিনারে মেতে উঠলেন।পানির তৃষ্ণা ছিল বেশি। সবাই আমাদের  দেশের মত খাবারের পরে পানি চাইলেন কিন্তু তার পরিবর্তে তারা দিলেন গরম পানি আর লাল চা । এ এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা। আমরা অনুরোধ জানালাম ঠান্ডা পানির জন্য কিন্তু  দিলেন না। কারণ এই দেশে   চীনারা খাবারের পর ঠান্ডা পানি খায় না যার কারণে পানির কোনো ব্যাবস্তা নাই। আমরা খুবই হতাশ হয়ে গেলাম কারণ দীর্যদিনের চিরাচরিত অভ্যাস খাবারের পর পানি  ছাড়া আমাদেশের তৃপ্তি মেটেনা। অগত্যা গরম পানি দিয়েই আমাদের তৃষ্ণা নিবারণের চেষ্টা চালালাম।কিন্তু কিছুতেই তৃষ্ণা নিবারণ করা যাচ্ছেনা। এছাড়া আমাদের র কোনো উপায় নেই। এভাবে চীনে আমাদেশের প্রথম দিনের অভিযাত্রা হোটেলে গিয়ে শেষ হলো। 
************************************
লেখক:
মো: হারুন-অর-রশীদ,
ex.Chairman.
শিকারপুর ইউনিয়ন পরিষদ।
Hathazary Upazila,Chittagong.
“”””””””””””””””””””””””””””””””””
President,
লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং পারিজাত এলিট।
“”””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””””
 Managing Partner & CEO
গার্ডিয়ান ট্রাভেলস ,চট্রগ্রাম।